আলমাস কবীরের ভ্রমণ ব্লগঃ ব্রাজিল যাত্রীর ডায়েরী – ১

0

সৈয়দ আলমাস কবির, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) বর্তমান কমিটির সভাপতি, আয়াল কর্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং  মেট্রোনেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা চেম্বারের টেলিকম, আইসিটি এবং ইন্টেলেকচুয়্যাল প্রোপার্টি রাইটস স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক, এফবিসিসিআই-এর দু’টি স্ট্যান্ডিং কমিটি (ই-কমার্স এবং টেলিকম ও আইটি) কো-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাংগঠনিক কিংবা ব্যবসায়িক প্রায় সময়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ান তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই সংগঠক।সেখানকার কাজ-কর্ম সেরে দিনশেষে নিজের কর্মপ্রণালী এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তার ফেসবুক টাইমলাইনে। বাংলা ভাষার প্রাঞ্জল ব্যবহারে তাৎক্ষনিক মানসিক অবস্থা ফুটে উঠে তার লেখনীতে। এবারের ডায়েরীর আয়োজন ব্রাজিল ভ্রমণ নিয়ে। চলুন পাঠক জেনে নেয়া যাক ব্রাজিল ভ্রমনের অভিজ্ঞতা। আজ থাকছে ডায়েরীর  প্রথম পর্ব। 

ইস্তাম্বুল থেকে যাত্রা শুরু করে ১৪ ঘন্টা আকাশে উড়ে অতলান্তিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর সাও পাওলো-তে এসে নামলাম। যাত্রাপথে দু’দফা ঘুমিয়েছি, তিন-তিনটে সিনেমা দেখেছি, আর সুন্দরী তুর্কী বিমানবালাদের আতিথেয়তা উপভোগ করেছি। এই তুর্কীদের বিমানগুলোতে নিজস্ব শেফ থাকায় খাবার-দাবারের মান বেশ উঁচুদরের তো বটেই, বৈচিত্রও বাহ্‌বা-র দাবীদার। স্বর্গের মত যা চাইছি, যখন চাইছি, পরিবেশন করছেন বিমান-সেবিকাগণ। অবশেষে মর্তে যখন নামলাম, দক্ষিণ গোলার্ধে বিকেল তখন পরন্ত।

বাড়ী থেকে রওয়ানা দিয়েছি তা’ প্রায় দু’দিন হতে চলেছে। গন্তব্যে কিন্ত এখনও পৌঁছাইনি। এই সাও পাওলো থেকে আবার বিমান বদল করে যাব চুড়ান্ত গন্তব্য রিও ডি জেনেরিও-তে। বেশ বড় সাও পাওলোর বিমানবন্দরটি। অভিবাসন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে, ঢাকাতে তুর্কী বিমানের কাছে আমানত রাখা মালপত্র ফেরৎ নিয়ে, আভ্যন্তরীণ বন্দরের দিকে পায়ে হেঁটে যাত্রা করলাম। কিলোমিটার খানেক মালের ট্রলি ঠেলে ব্রাজিলীয় লাটাম বিমানের স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক মেশিনের মাধ্যমে নিজেদেরকে আবার সপে দিলাম বৈমানিকদের হাতে। সাও পাওলো থেকে রিও ডি জেনেরিও আকাশপথে ১ ঘন্টা। আমাদের শেষ গন্তব্য রিও-তে যখন নামলাম, রাত তখন ঠিক ১০টা। হিসেব করে দেখলাম, ঢাকা থেকে উড়ে এখানে অবতরণ করতে করতে মোট ৪৮ ঘন্টা কেটে গিয়েছে!

নির্ভরযোগ্য যাত্রীসেবার জন্য উবার-এর জয়জয়কার বিশ্বময়। এখানেও উবার-এর ক্রমাধিপত্য লক্ষ্য করলাম রিও-র টম যবিম বিমানবন্দরে। তাই মুঠোফোনে উবার ডেকে রওয়ানা হলাম হোটেলের উদ্দেশ্যে। শখকে একটু প্রশ্রয় দিয়ে একটু বেশী টাকা দিয়েই বিখ্যাত কোপাকাবানা সমুদ্র-সৈকতের সামনে হোটেল ভাড়া করে রেখেছিলাম। হোটেলের ঘরে ঢুকে জানালার পর্দা সরিয়ে মনে হলো, টাকাগুলো জলে যায়নি! সামনে সুবিশাল অতলান্তিকের জলরাশি। বড় বড় ঢেউ কোপাকাবানার সৈকতে আঁছড়ে আঁছড়ে পড়ছে। মাঝে চওড়া তিনভাগে ভাগ করা রাস্তাঃ পথচারীদের জন্য ফুটপাত, সাইকেল-আরোহীদের জন্য নির্দিষ্ট পথ, আর গাড়ী চলাচলের রাস্তা। কিছুদূর পর পর রয়েছে পানশালা, যেখানে জোরে গান বাজছে আর লোকে ভীড় করে তা’ উপভোগ করছে। উপকুলীয় শহর বলে তাপমাত্রা গরমের দিকেই।

রিও ডে জেনেরিও-তে এখন বাৎসরিক আনন্দোৎসব বা কার্নিভালের সময়। দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক এসে ভিড়েছে এখানে এই বিশ্বখ্যাত আনন্দমেলায় যোগ দিতে। তাই সারা শহরেই একটা উৎসব উৎসব ভাব। কাল রিও আবিষ্কারে বেড়বো, তাই তরতাজা হবার জন্য এখন একটা জম্পেশ ঘুম দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

টি মন্তব্য

Share.

Comments are closed.