জেনে নিন বিকাশ-রকেটের মত সেবার ক্ষেত্রে প্রতারণা এড়াতে যা করনীয়!

0

কম খরচে নিরাপদে সহজে সারাদেশের যেকোন প্রান্তে টাকা পাঠানো বাংলাদেশের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস খাতের অন্যতম উপাদান হয়ে দাড়িয়েছে। যেকোন সময় যেকোন স্থান থেকে খুব সহজে গ্রাহক নিজেই লেনদেন করতে পারেন বিধায় এ সেবা গ্রহণের হার বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য।

একস্থান থেকে অন্য স্থানে মুহূর্তেই টাকা পাঠানো, অনলাইনে বা কোন দোকান থেকে পণ্য কিনে দাম পরিশোধ করা, স্কুল-কলেজের ফিসহ যে কোন ধরনের ফি দেয়া, ইউটিলিটি বিল দেয়া, মোবাইল রিচার্জ করা, রাইড শেয়ারিং এর ভাড়া দেয়া, বাস ট্রেনের টিকেট কেনাসহ নিত্যদিনের অসংখ্য কাজে এখন মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে মোবাইল ওয়ালেট হয়ে উঠেছে জীবনের-ই অংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে সারাদেশে এমএফএস এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লক্ষ এবং প্রতিদিন এ মাধ্যমে প্রায় ৬৫ লক্ষ লেনদেন হয়। টাকার পরিমাণে যা এক হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু মোবাইল ওয়ালেট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতে গুটি কয়েক অসাধু চক্র সক্রিয় আছে। অথচ গ্রাহক কিছুটা সচেতন হলেই তা বন্ধ করা সম্ভব।

চলুন জেনে নেয়া যাক কিছু সাধারণ কিন্তু জরুরী প্রক্রিয়া-

ডিজিটাল জগতে যত ধরনের একাউন্ট তা সবই পিন বা পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। ডিজিটাল ওয়ালেট এর ক্ষেত্রেও তাই। পিন নম্বরই আসলে ডিজিটাল ওয়ালেটের এর চাবি। ফলে চাবি অন্যের হাতে তুলে দিলে যেমন সিন্দুকও নিরাপদ নয় তেমন পিন অন্য কাউকে জানিয়ে দিলে মোবাইল ওয়ালেটও নিরাপদ থাকবে না।
একটি মাত্র পদক্ষেপ নিয়েই অনেকাংশে মোবাইল একাউন্ট নিরাপদ রাখা সম্ভব। আর তা হলো পিন বা গোপন নম্বর কাউকে না জানানো। মোবাইল ওয়ালেট লেনদেন যন্ত্র নির্ভর লেনদেন। পিন নম্বর ছাড়া কোনভাবেই এ লেনদেন সম্ভব নয়। তাই যেকোন ব্যক্তির সাথে মোবাইল ওয়ালেট এর পিন নম্বর শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি খুব কাছের আপনজন বা পরিবারের সদস্যদের সাথে পিন নম্বর শেয়ার না করা ভালো।
অনেকে আবার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে পিন নম্বর শেয়ার করেন। জেনে রাখুন পিন নম্বর জানেন কেবল গ্রাহক। যে প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করছেন তারাও আপনার পিন জানেন না বা কখনই জানতে চাইবেন না। ফলে যখনই কেউ পিন নম্বর জানতে চাইবে বুঝতে হবে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে পরিস্থিতি যা-ই হোক পিন নম্বর গোপন রাখুন।

চাকরি পেয়েছেন, লটারি জিতেছেন, আপনার আত্মীয় বা পরিচিত কেউ বিপদে পড়েছেন তার সাহায্য দরকার, তথ্য আপডেট করা হচ্ছে, একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হবে, ভুল করে টাকা পাঠানো হয়েছে এরকম বা এর বাইরে পিন নম্বর বা একাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য চেয়ে কেউ ফোন করলে বা এসএমএস এর মাধ্যমে কোন তথ্য চাইলে আগে তার পরিচয় নিশ্চিত করুন। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছে সেই নম্বর পরিচিত হলেও ভিন্ন উপায়ে পরিচয় নিশ্চিত করুন। পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কোন ধরনের লেনদেন করবেন না।

অনেক গ্রাহক হ্যান্ডসেটে মোবাইল একাউন্টের নম্বর সংরক্ষণ করে রাখেন। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোন কারণে মোবাইল হারিয়ে গেলে মোবাইল একাউন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। সুতরাং পিন নম্বর, ইউজার আইডি মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখবেন না। সবসময় লেনদেন শেষে একাউন্ট থেকে লগআউট করবেন।

অনেক ক্ষেত্রে যেসব গ্রাহকরা প্রতারণার শিকার হন তাদেরকে ফোনে কথা বলতে বলতেই নির্দেশনা দেয়া হয়। বলা হয় এখন ১ চাপুন, এখন এমাউন্ট দিন, পিন নম্বর দিন। কখনোই ফোনের নির্দেশনা অনুসারে বাটনে প্রেস করবেন না। ফোনের নির্দেশনা অনুসরণ করিয়ে আপনাকে দিয়েই আপনার একাউন্টের টাকা প্রতারকের একাউন্টে সরিয়ে নিতে পারেন।

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো বা অন্যকোন মাধ্যমে খুব কাছের পরিচিত কেউ টাকা ধার চাইলে বা বিকাশ করতে বললে সাথে সাথে তা করবেন না। টাকা পাঠানোর আগে আসলেই তিনি টাকা ধার চেয়েছেন কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।

আর্থিক লেনদেনের সেবা হওয়ার কারণে য়ান টাইম পাসওর্য়াড (ওটিপি) নির্ভর অ্যাপ ইন্সটলমেন্ট করে সুরক্ষিত করা হয়েছে। কোন অবস্থাতেই কাউকেই ওটিপি নম্বর শেয়ার করবেন না বা ওটিপি’র ম্যাসেজ শেয়ার করবেন না।

মন্তব্য করুন

টি মন্তব্য

Share.

Comments are closed.