শাওমি ফোনের বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে অভিযোগ বাড়ছে

0

চীনের প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাওমি অন্যান্য দেশে তো বটেই, এরই মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে বাংলাদেশেও। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় পরিবেশকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করলেও এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পরও গ্রাহকসেবা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অভিযোগ লেগেই আছে।

বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্মার্টফোন এবং শাওমি বিষয়ক গ্রুপগুলোতে এমন অনেক অভিযোগ মিলেছে। বেশিরভাগ অভিযোগমূলক পোস্টেই ব্যবহারকারীরা লিখেছেন, ওয়ারেন্টি থাকা সত্ত্বেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সার্ভিস। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফোনের কোনো পার্টস পাল্টে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও তার জন্য চার্জ দাবি করা হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়। অনেকেরই অভিযোগ, একই সমস্যার সমাধানে একেক গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে চাওয়া হচ্ছে একেকরকম খরচ, একটির সাথে অন্যটির মিল নেই। ফলে বিভ্রান্ত ব্যবহারকারীদের ফোন সারিয়ে নিতে হচ্ছে বাইরের কোনো সার্ভিস সেন্টার থেকে। মজার বিষয় হলো, এক্ষেত্রে শাওমির গ্রাহক সেবা কেন্দ্র থেকেও কম খরচ পড়ছে বলে দাবি ব্যবহারকারীদের।

এসব অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে সম্প্রতি শাওমির একটি গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে গেলে হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে।

আতিক নামের একজন ব্যবহারকারী এ বছরের শুরুর দিকেই কিনেছেন শাওমি এ ওয়ান স্মার্টফোন যার র‍্যাম ৪ গিগাবাইট এবং রম ৬৪ গিগাবাইট। সম্প্রতি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ফোনের স্পিকার ঠিকভাবে কাজ না করায় তিনি গ্রাহক সেবাকেন্দ্রের শরণাপন্ন হন। কিন্তু সেখান থেকে তাকে বলা হলো কোনো সমাধান দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না। ফোনের ওয়ারেন্টি থাকা সত্ত্বেও ফোন কেন ঠিক করে দেওয়া হবে না, এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রাহক সেবাকেন্দ্রের প্রতিনিধি আতিককে জানিয়েছেন এ ফোনের পার্টস তাদের কাছে নেই। নিজ খরচে বাইরে থেকে সার্ভিসিং করে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে এ ব্যবহারকারীকে। ফোন বাজারে এসেছে খুব বেশিদিন হয়নি, এ ফোনের পার্টস থাকবে না কেন? আতিকের এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে। অগত্যা আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি হাটা ধরলেন একটি মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ের দোকানের উদ্দেশ্যে।

শুধু এখানেই শেষ নয়। শাওমি ফোন ব্যবহারকারীরা তাদের ফোন সংক্রান্ত কোনো পরামর্শের জন্য গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গেলে পরামর্শের জন্যও অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। আহাদ নামের একজন ব্যবহারকারী সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তার ফোনের ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ অপশনটি তিনি আনলক করতে পারছিলেন না। পাসওয়ার্ড কীভাবে রিসেট করা যাবে সেটি জানার জন্য গিয়েছিলেন গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে। কিন্তু সেখানে তাকে বলা হলো ফোনের ওয়ারেন্টি থাকলে ৫০০ এবং ওয়ারেন্টি না থাকলে এক হাজার টাকা পরিশোধ করার পর উপায় বলে দেওয়া হবে। তবে পরবর্তীতে ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল দেখে তিনি নিজেই এর সমাধান বের করেছেন আহাদ।

মন্তব্য করুন

টি মন্তব্য

Share.

Comments are closed.