হ্যান্ডস-অন রিভিউ: জাল নোট শনাক্তকারী ‘ডিগো ডিটেক্টর’

0
6.8 Awesome
  • User Ratings (2 Votes) 6.9

আবির হাসান: রিভিউ’র শুরুতে ছোট্ট একটা গল্প বলতে চাই। গতকালকেই ফেসবুকের একটা গ্রুপে পড়ছিলাম, একজন ব্যক্তি একটি ক্লাসিফাইড সাইটে তার ল্যাপটপটি বিক্রির উদ্দেশ্যে পোস্ট দেন। পরে একজন তাকর ফোন দেয় এবং বাসায় এসে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে সেটি কিনে নিয়ে যায়। ঘটনা এখানে শেষ হলেই ভালো হতো, কিন্তু যা ঘটল তা হচ্ছে ঐ ১৮ হাজার টাকার সবগুলো নোটই ছিল জাল।

এবার আসি মুল কথায়, বর্তমান যুগটিকে আপনি নির্দ্বিধায় স্মার্টফোনের যুগ বলে চালিয়ে দিতে পারবেন। এর কারণ হচ্ছে, প্রায় প্রতি মাসেই স্মার্টফোন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিত্যনতুন প্রযুক্তি আর সব চোখ ধাঁধানো চমৎকার সব ফিচার নিয়ে স্মার্টফোন বাজারে এনে ব্যবহারকারীদের অবাক করে দিতেই যেন ব্যস্ত। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যখন প্রযুক্তি বাজার দখল করতে চেষ্টা করছে। সেখানে উদ্ভাবনী মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড খ্যাত দেশীয় ফিচার ফোন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ডিগো তাদের ফিচার ফোনে নিত্যনতুন অভাবনীয় সব ফিচার যুক্ত করছে। একইসাথে দেশের সকল স্তরের মোবাইল ব্যবহারকারীদের হাতের নাগালে এই নির্ভরযোগ্য এবং টেঁকসই ফিচার ফোনসমূহ পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

এর আগে আমরা প্রতিষ্ঠানটির বহুল জনপ্রিয় ইমার্জেন্সি ফোন পি২৪১ এবং পানি নিরোধক ফিচার ফোন এন২৪১ মডেলের রিভিউ করেছিলাম। জনপ্রিয় এসব ফোনের পরে উদ্ভাবনী ধারাবাহিকতায় এবার এই প্রতিষ্ঠানটি বাজারে নিয়ে এলো তাদের নতুন জাল টাকা শনাক্তকারী ফিচার ফোন ‘ডিগো ডিটেক্টর’।

আন-বক্সিং 

ফোনটির বক্স খুললে আপনি যা যা পাচ্ছেন-

  • হ্যান্ড সেট
  • একটি হেডফোন
  • একটি ব্যাটারি
  • একটি ট্র্যাভেল চার্জার
  • একটি ইউজার ম্যানুয়াল
  • একটি ওয়ারেন্টি কার্ড

স্পেসিফিকেশন 

‘ডিগো ডিটেক্টর’ নামের এই ফিচার ফোনটিতে রয়েছে একটি ২.৪ ইঞ্চি আকারের কিউভিজিএ (৩২০x২৪০ পিক্সেল) ডিসপ্লে প্যানেল। যা খুব আহামরি কিছু না হলেও এই ফোনটির জন্য তা একেবারেই পর্যাপ্ত। খুব বেশি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ফিচার ফোনটিতে যুক্ত করা হয়েছে একটি ডিজিটাল ক্যামেরা।

শুধু ছবিই নয় বরং ব্যবহারকারীরা চাইলে এর মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন। এই ফোনটিতে আপনি প্রায় ১৬ গিগাবাইট পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। ২জি সাপোর্টেড এই ফোনটিতে ২টি রেগুলার সিম স্লট রয়েছে। ডিটেক্টর মডেলের এই ফোনটিতে রয়েছে একটি ৩০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের রিমুভাল ব্যাটারি ইউনিট। পাশাপাশি ফোনটিতে টর্চ, ইন্টারনেট,এবং ব্লুটুথ সুবিধাও রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সকল ফিচার ফোনগুলোর মতো এই ‘ডিগো ডিটেক্টর’ ফোনটির থিকনেসও বাজারের অন্যান্য সব ফিচার ফোন থেকে কিছুটা বেশি। তবে শক্তিশালী ব্যাটারি ইউনিট এবং আরও কিছু বাড়তি সুবিধার জন্যই মূলত এরকম আকার দেয়া হয়েছে ফোনটিকে।

ফিচার সমুহ

ওয়্যারলেস এফএম –

এফএম রেডিও ব্যবহারকারীদের জন্য এতে দেয়া হয়েছে ‘ওয়্যারলেস’ এফএম রেডিও সুবিধা যার ফলে কোন রকম হেডফোনের ঝামেলা ছাড়াই চমৎকার এফএম স্টেশনগুলোর বিভিন্ন সম্প্রচার উপভোগ করতে পারবেন আপনি।

লাউড স্পীকার – 

প্রতিষ্ঠানটির মতে মোবাইলটিতে বেশ উচ্চশব্দের স্পীকার থাকায় এই মোবাইলটিকে গান এবং এফএম রেডিও শোনার ক্ষেত্রে ডেডিকেটেড ডিভাইসের মতোই মনে হবে।

এ ছাড়াও যারা মোবাইলে গান শুনতে পছন্দ করেন তারা বাড়তি মেমরি কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে ইচ্ছেমতো পছন্দের ট্র্যাকগুলো সাথে রাখতে পারবেন সব সময়। তবে জেনে রাখা ভালো, এক্সটারনাল মেমোরি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১৬ গিগাবাইট। আর মোটামুটি বিনোদনের জন্য ফোনটিতে আছে ইন্টারনেট, একটি গেম এবং ব্লুটুথ সুবিধা।

এতক্ষণ যে সুবিধাগুলোর কথা বলা হলো সেগুলো কিন্তু প্রায় সব ফিচার ফোনেই কম বেশি থাকে। চলুন তাহলে, এখন এই ফোনটির বিশেষ ফিচারগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

জাল টাকা শনাক্তকরণ –


ফোনটির মাধ্যমে আপনি সহজেই জাল টাকা শনাক্ত করতে পারবেন এবং এখানেই মূলত এই ‘ডিগো ডিটেক্টর’ ফিচার ফোনটির নামকরণের সার্থকতা রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্য ফোনটিতে আছে আল্ট্রাভায়োলেট লাইট যা ব্যবহারে আসল টাকার নিরাপত্তা সুতা ডিটেক্ট করা যায় যা জাল টাকায় থাকে না।

ডেডিকেটেড টর্চ লাইট – 

ফোনটিতে আছে বেশ উজ্জ্বল এবং শক্তিশালী একটি ডেডিকেটেড টর্চ লাইট। সাধারণত আপনারা যারা ৩ ব্যাটারির টর্চ আলাদা ব্যবহার করে থাকেন তারা এই ডিভাইসটি থেকে সেরকমই আলো পাবেন। ডেডিকেটেড বলছি কেননা এই লাইটটির সাথে মোবাইলের অন্যান্য সিস্টেমের কোন সম্পর্কে নেই।

মোবাইল বন্ধ থাকা অবস্থাতেও এটি দিব্যি ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই লাইটটি ব্যবহার করার জন্য মোবাইলটির ডান পাশে আছে একটি ডেডিকেটেড সুইচ। শক্তিশালী এই টর্চ লাইটটি দুটি মোডে ব্যবহার করা যায়।

শক্তিশালী ব্যাটারি –
স্মার্টফোনটির অন্যতম আকর্ষণ এর শক্তিশালী ব্যাটারি ইউনিট। এতে রয়েছে ৩০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার একটি লি-আয়ন ব্যাটারি যা এক চার্জে একটানা বেশ কিছুদিন ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, এই শক্তিশালী ব্যাটারিটি এই ফোনটিকে রূপান্তরিত করেছে একটি পাওয়ার ব্যাংকেও।

অর্থাৎ,এর মাধ্যমে আপনি অন্য একটি মোবাইলেও প্রয়োজনে চার্জ করতে পারবেন। একই সাথে আপনি যদি ফোনে খুব বেশি কথাও বলে থাকেন, আমি আশা করছি অন্তত তিন দিন এই ফোনটি আপনাকে ব্যাটারি ব্যাক-আপ দিতে সক্ষম।

পারফরমেন্স 

ফিচার ফোন হিসেবে ডিভাইসটির পারফর্মেন্স যথেষ্ট ভালো। যেহেতু এটি একটি সিম্পল ফিচার ফোন তাই আশা করি আপনি অ্যামোলেড ক্রিপ্স ডিসপ্লে আশা করবেন না? তাই ডিসপ্লে ইউনিট নিয়ে না হয় আলোচনা নাই করা যাক। তবে হ্যাঁ, ডিভাইসটির ডিসপ্লে যথেষ্ট উজ্জ্বল এবং এতে ব্যবহারকারীদের জন্য কাস্টম কনট্রাস্ট সেটিংস-এর ব্যবস্থা রয়েছে। ডিভাইসটির ক্যামেরা ইউনিট আমার মতে ব্যবহারযোগ্য নয়, তবে আবারো মনে করিয়ে দিতে চাই, এই মূল্যের ডিভাইস থেকে আপনি নিশ্চয়ই চমৎকার কোন আউটপুট আশাই করবেন না!

খারাপ দিক সমূহ 

ডিজাইন – এটি বেশ বড় আকারের একটি মোবাইল এবং হাতে ধরলে কিছুটা অদ্ভুত মনে হবে আপনার কাছে। তবে, এই বড় আকারের কারণ এর শক্তিশালী ব্যাটারি ইউনিটটি। শক্তিশালী ব্যাটারি এবং পাওয়ার ব্যাংক হিসেবে মোবাইলটিকে তৈরি করতে গিয়ে সম্ভবত কিছুটা বড় আকারের ডিজাইন করতে প্রতিষ্ঠানটি বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি এর বিল্ড কোয়ালিটিও বেশ চমৎকার, তাই সব মিলিয়ে এই খারাপ দিকটির দিকে আঙ্গুল তোলাটাও কিছুটা বোকামি!

সিদ্ধান্ত 

আপনার যদি সেকেন্ডারি ফোন হিসেবে একটি ফিচার ফোন দরকার হয় একইসাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনি যদি নিরাপদ মানুষ হয়ে থাকেন তবে নিঃসন্দেহে মাত্র ১৭৯০ টাকার এই ডিভাইসটি হতে পারে একটি আদর্শ ডিভাইস। শুধু যে ফোনটির ফিচারগুলোই আপনার কাজে আসবে তা কিন্তু নয়!

বরং কিছুটা থিক হলেও শক্তিশালী প্ল্যাস্টিক বিল্ড, মেটাল গার্ডের ব্যবহার এবং কার্ভড বডির মিশ্রণ ফোনটিকে আপনার খুব পছন্দের একটি প্রয়োজনীয় গ্যাজেটেই রূপান্তর করবে। একটি ফিচার ফোনের ‘চমৎকার ডিভাইস’ হওয়ার জন্য যেসব যোগ্যতার দরকার হয় সেসব গুণই এর মধ্যে রয়েছে।

ডিগো ডিটেক্টর: হ্যান্ডস-অন ভিডিও রিভিউঃ

মন্তব্য করুন

টি মন্তব্য

Share.

মন্তব্য করুন