হ্যান্ডস-অন রিভিউ: উই বি২

0

আবির হাসান: ৫০ গিগাবাইট ক্লাউড স্টোরেজ এবং বিভিন্ন স্থানে ফ্রি হাইস্পিড ওয়াইফাই ব্যবহারের সুবিধা নিয়ে দেশীয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড উই বাজারে এনেছে সাশ্রয়ী মূল্যের বি২ মডেলের স্মার্টফোনটি। রেভ ইঞ্জিনের পক্ষ থেকে আমি আবির আজ আপনাদের জন্য স্মার্টফোনটির খুঁটিনাটি সব তথ্য নিয়ে এই হ্যান্ডস-অন রিভিউ নিয়ে হাজির হয়েছি। চলুন, জেনে নেয়া যাক স্মার্টফোনটির সম্পর্কে। তবে বিস্তারিত রিভিউ শুরু করার পূর্বে চলুন ডিভাইসটি আনবক্স করলে কী কী পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

আনবক্সিং

উই বি২ স্মার্টফোনটি আনবক্স করলে বক্সে আপনারা যা পাবেন,

  • একটি উই বি২ স্মার্টফোন
  • একটি স্বচ্ছ প্ল্যাস্টিক ব্যাক কেস
  • একটি ডেটা ক্যাবল
  • একটি ট্র্যাভেল চার্জার
  • একটি ৩.৫ মিলি মিটার জ্যাক বিশিষ্ট হেডফোন
  • একটি ইউজার ম্যানুয়াল এবং একটি ওয়ারেন্টি কার্ড

ডিজাইন

উই বি২ স্মার্টফোনটি পুরোটাই প্ল্যাস্টিক বিল্ডের হলেও এর ব্যাক পার্টে ব্যবহার করা হয়েছে চমৎকার মেটাল ব্রাশ ফিনিশিং টেক্সচার যার ফলে ফোনটি পেয়েছে কিছুটা প্রিমিয়াম লুক। স্মার্টফোনটির ডিজাইনে কোন নতুনত্ব যোগ করা হয়নি অর্থাৎ এমন ডিজাইনের স্মার্টফোন প্রযুক্তি বাজারে আমরা সচরাচর দেখে থাকি।

স্মার্টফোনটির টপ ফ্রন্ট রাখা হয়েছে প্রক্সিমিটি ও লাইট সেন্সর, একটি স্পিকার,একটি ফ্রন্ট ক্যামেরা ও নোটিফিকেশন লাইট। ডিভাইসটির টপ বটম রাখা হয়েছে একেবারেই খালি, নেই কোন ক্যাপাসিটিভ টাচ বাটন; এর পরিবর্তে স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অন-স্ক্রিন ন্যাভিগেশন কী।

উই বি২ স্মার্টফোনের ডান পাশে আছে পাওয়ার বাটন এবং বামে রাখা হয়েছে ভলিউম রকার।

ডিভাইসটির উপরের দিকে শুধুমাত্র একটি ৩.৫ মিলিমিটার হেড ফোন জ্যাক রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি এবং একদম নিচের দিকে রয়েছে ৫ পিনের একটি মাইক্রো ইউএসবি বি টাইপ পোর্ট এবং হ্যান্ড সেটটির প্রাইমারী ও একমাত্র মাইক্রোফোন।

ডিভাইসটির ব্যাক পার্টের একদম উপরের ভাগে দেখতে পাবেন এর রিয়ার ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ ও প্রতিষ্ঠানটির লোগো এবং একদম নিচে পাবেন স্মার্টফোনটির মডেল নম্বর, ছোট্ট করে লেখা ‘ক্রাফটেড বাই আমরা’ টেক্সট এবং এর স্পিকার গ্রিল।

উই বি২ স্মার্টফোনটিতে নন-রিমোভ্যাল ব্যাটারি থাকলেও এর ব্যাক পার্টটি রিমোভ্যাল, শুধু মাত্র সিম এবং মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট ব্যবহার করার জন্যেই এই সুবিধা দেয়া হয়েছে।

ডিসপ্লে

স্মার্টফোনটিতে আছে এইচডি রেজ্যুলেশন ও ২৯৪ পিপিআই সমৃদ্ধ একটি ৫ ইঞ্চি আকারের একটি আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ডিসপ্লে নিরাপত্তায় এতে ব্যবহার করা হয়েছে পাণ্ডা কিং গ্লাস প্রযুক্তিটির।

ডিভাইসটির ডিসপ্লে প্যানেলটির কালার রি-প্রোডাকশন আমাদের কাছে বেশ ভালোই মনে হয়েছে। এছাড়াও কালার টুইক করার জন্য স্মার্টফোনটিতে আছে মিরা ভিশন প্রযুক্তিরও।

সূর্যের আলোর নিচেও মোটামুটি ব্রাইট আউটপুট পাওয়া গিয়েছে ডিভাইসটির ডিসপ্লে প্যানেল থেকে, পাশাপাশি ডিভাইসটির ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলও মোটামুটি ভালো বলা চলে।

ডিভাইসটির ডিসপ্লে প্যানেলের একমাত্র সীমাবদ্ধতা হিসেবে আমার কাছে যে দিকটি মনে হয়েছে তা হচ্ছে এর পিক্সলেটেড স্ক্রিন। ৫ ইঞ্চি আকারের একটি ডিসপ্লে প্যানেল থেকে যতটা ক্রিস্প আউটপুট আশা করা যায় ঠিক ততটা আমি এই ডিভাইসটিতে পাইনি, কিছুটা পিক্সেলেটেড মনে হয়েছে আমার কাছে।

ক্যামেরা

স্মার্টফোনটিতে আছে অটো-ফোকাস সমৃদ্ধ ৮ মেগাপিক্সেলের একটি রিয়ার ক্যামেরা ইউনিট এবং ফিক্সড ফোকাস ৫ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ফেসিং শুটার। দুটি ইউনিটই মোটামুটি ছবির আউটপুট দেয় তবে সমমূল্যের বেশ কিছু স্মার্টফোনের ৮ মেগাপিক্সেল ইউনিটগুলো তুলনামূলক ভাবে এই ডিভাইসটি থেকে এগিয়ে থাকবে বলেই আমার ধারণা।

স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুটার যা বেশ ভালো সেলফি তুলতে সক্ষম বলেই মনে হয়েছে আমার কাছে।

স্মার্টফোনটির ক্যামেরা ইন্টারফেসও বেশ সাধারণ।

সফটওয়্যার

উই বি২ স্মার্টফোনটিতে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালো ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি অ্যান্ড্রয়েডের উপরের লেয়ারে কোন বাড়তি লেয়ার অর্থাৎ ইউজার ইন্টারফেস বা কাস্টম স্কিম ব্যবহার করেনি। আপনারা স্টক অ্যান্ড্রয়েডের স্বাদই পাবেন হ্যান্ড সেটটি ব্যবহার করার সময়।

স্মার্টফোনটিতে উই এর নিজস্ব কিছু অ্যাপলিকেশন ছাড়া বাড়তি কোন ব্লটওয়্যার খুঁজে পাইনি তবে এতে ফেসবুক, ভাইবার, ইমো ইত্যাদি অ্যাপলিকেশনগুলো প্রি-ইন্সটলড অবস্থায় পাওয়া যাবে।

হার্ডওয়্যার ও পারফর্মেন্স

স্মার্টফোনটিতে থাকছে ১ গিগাহার্জ গতির একটি কোয়াড কোর এআরএম কর্টেক্স এ৫৩ ৬৪বিট প্রসেসর ও মিডিয়া টেক ৬৭৩৫ চিপসেট। গ্রাফিক্সের জন্য এতে আছে মালি টি৭২০ জিপিইউ, আছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ১৬ গিগাবাইট স্টোরেজ ক্যাপাসিটি যার মধ্যে প্রায় ২৯33 মেগাবাইট র‍্যাম ও ১০.৬৮ গিগাবাইট পর্যন্ত ইউজার অ্যাভেইল্যাবল রম স্পেস পাওয়া যাবে, সাথে মেমোরি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা তো থাকছেই।

বেঞ্চ মার্ক স্কোর

অনেক ব্যবহারকারীই আছেন যারা একটি স্মার্টফোনের পারফর্মেন্স বিবেচনা করে থাকেন বিভিন্ন ধরণের বেঞ্চমার্কিং টুলের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে উই বি২ ডিভাইসটি আনটুটুতে স্কোর করেছে ২৪,১৭৭, নেনামার্ক ২-তে এর স্কোর ছিল ৪৯.১ এফপিএস এবং গিকবেঞ ৪-এ এর সিঙ্গেল কোর ও মাল্টি কোরের পারফর্মেন্স পাওয়া গিয়েছে যথাক্রমে ৪৪৮ ও ১২২৪ যা খুব বেশি না হলেও ডিভাইসটির মূল্য অনুসারে আমাদের কাছে স্বাভাবিকই মনে হয়েছে।

গেমিং পারফরমেন্স

স্মার্টফোনটির হার্ডওয়্যার কম্বিনেশন কিছুটা অদ্ভুত! ১ গিগাহার্জ গতির কোয়াড কোর প্রসেসরের সাথে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম এবং টি৭২০ জিপিইউ এর সেট আপ দেখে অন্তত আমার কাছে তেমনটাই মনে হয়েছে। যাই হোক, স্মার্টফোনটিতে ছোট কিছু এইচডি গেমের পাশাপাশি মিডিয়াম আকারের গেমগুলোও খেলে দেখা হয়েছে। ড্রিম লিগ সকার টাইপের গেমগুলো পর্যন্ত আমরা কোন ল্যাগ অনুভব করিনি তবে আপনি যদি অ্যাসফল্ট এক্সট্রিম পর্যায়ের গেমগুলো খেলতে চান তবে স্বাভাবিক ভাবেই হালকা ল্যাগের সম্মুখীন হতে হবে আপনাকে।

সেন্সর

উই বি২ স্মার্টফোনটিতে আছে একসেলারোমিটার, প্রক্সিমিটার ও লাইট সেন্সর।

ব্যাটারি লাইফ

আমার কাছে স্মার্টফোনটির ব্যাটারি লাইফ বেশ চমৎকার মনে হয়েছে। স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪,০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার একটি লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি ইউনিট যা সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসেই আপনাকে দু দিনেরও বেশি সময় ধরে ব্যাক আপ দিতে সক্ষম।

এই ছিল স্মার্টফোনটির প্রায় সকল তথ্য। বর্তমান বাজারে স্মার্টফোনটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯,৭৯০ টাকায়। সম মূল্যের স্মার্টফোনগুলো থেকে এটি শক্তিশালী প্রসেসর, চমৎকার স্ক্রিনের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও আপনি যদি কোন প্রকার ল্যাগ ছাড়াই এক চার্জে সোশ্যাল মিডিয়াতে সংযুক্ত থকতে চান তবে উই ডিভাইসটি হতে পারে আপনার জন্য একটি আদর্শ স্মার্টফোন।

উই বি২ স্মার্টফোনটির হ্যান্ডস-অন ভিডিও রিভিউঃ 

মন্তব্য করুন

টি মন্তব্য

Share.

মন্তব্য করুন